অনলাইনে পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন করার নিয়ম ২০২৫

অনলাইনে পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন তাহলে একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। নতুন ঘরবাড়ি, দোকানপাট, কলকারখানা অথবা শেষ প্রকল্পের জন্য পল্লী বিদ্যুতের নতুন মিটার ও সংযোগ নিতে অনেকেই নানা রকমের হয়রানীর শিকার হয়ে থাকেন।

অনলাইনে-পল্লী বিদ্যুৎ-মিটার-আবেদন-করার-নিয়ম


ভালো মানুষের মুখোশধারী কিছু দালালরা মিটান সংযোগ এনে দেবে বলে গ্রামের সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেই। এ সকল সমস্যা দূর করতে অনলাইনে মিটার আবেদন করতে হবে।তাই আজকের এই আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার মাধ্যমে অনলাইনে পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে সকল তথ্য জানতে পারবেন জানতে পারবেন।

 পোস্ট সূচিপত্রঃ অনলাইনে পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন করার নিয়ম জানতে পড়ুন

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সম্পর্কে কিছু ব্যাসিক তথ্য

বাংলাদেশের অনেক মানুষই জানে না যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BREB) অনুসারে, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের ৯৯% এরও বেশি গ্রামীন পরিবারে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছেন।১৯৭১ সালে শুধু মাত্র ছিল ৩%। BREB ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য মোক্ষম ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যুৎ জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করেন। দেশের প্রায় ৯০% গ্রামীণ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এর অবস্থান যেখানে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছে।

গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের জন্য BREB এর প্রথম পদক্ষেপ হলো সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা যা ছোট আকারের সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা যা স্বতন্ত্র পরিবারকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। সরকার এস এইচ এস স্থাপনকে উৎসাহিত করার জন্য অনেক ভর্তুকি প্রদান করে থাকেন। SHS এছাড়াও বিআরইবি মাইক্রো গ্রিড মিনি গিডের মাধ্যমেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এগুলি হলো ছোট আকারের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ।বিআরইবি প্রায়ই ৩০০০ মাইক্রো গ্রিড এবং মিনি গিড ইনস্টল করেছে যা প্রায় ৯,০০,০০০ পরিবারকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকেন।

তবে এখনো অনেক পরিবার রয়েছেন যারা বিদ্যুৎসেবার আওতাভুক্ত হয়নি অথবা এমন অনেকে রয়েছে যারা অন্যের নামে বিদ্যুৎ মিটার ব্যবহার করে অথবা বিদ্যুৎ সেবা গ্রহণ করছে। তাদের জন্য দেওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত নতুন মিটার। এক্ষেত্রে আপনিও যদি তাদের মধ্যে একজন হয়ে থাকেন তাহলে আপনারও পল্লী বিদ্যুৎ মিটার প্রয়োজন হবে। তাই এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এখানে আলোচনা করা হবে পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন করার যাবতীয় তথ্য সম্পর্কে।

অনলাইনে পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন করার নিয়ম ২০২৫

আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না যে, পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন করার জন্য তারা বেশ কিছু শর্ত প্রদান করেন। এছাড়াও আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ডকুমেন্ট এর প্রয়োজন হয় শুরুতে উক্ত ডকুমেন্টগুলো সংগ্রহ করতে হবে এবং মোবাইল কিনবা কম্পিউটারে তা ডকুমেন্টস আকারে সেভ করে রাখতে হবে। তারপর আবেদন করতে হবে আবেদনের জন্য প্রতি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে। আর আপনি যদি অনলাইনে পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন করতে চান তাহলে এই আবেদনের জন্য অবশ্যই আপনাকে ইন্টারনেট সংযোগ চালু রাখতে হবে।

পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন করতে কি কি ডকুমেন্ট লাগে



অনলাইনে পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন করতে গেলে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃক নির্দেশিত বিভিন্ন ডকুমেন্ট দাখিলের প্রয়োজন পড়ে। বাংলাদেশ প্রয়োজন পড়ে। একই ডকুমেন্টগুলো অফলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়। মিটার আবেদনের জন্য কি কি কাগজপত্র বা ডকুমেন্ট লাগে জানার জন্য অনেকে গুগলে অনুসন্ধান করে থাকেন। তাই আজকের এই আর্টিকেল পড়ার মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন করতে কি কি কাগজপত্র লাগে সেগুলো সম্পর্কে। তাই আর দেরি না করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃক নির্দেশিত কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অথবা ডকুমেন্ট সম্পর্কে নিচে জেনে নিন।
  1. যিনি আবেদন করবেন তার নাম বা আবেদনকারীর নাম
  2. আবেদনকারীর ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার
  3. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
  4. আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানা এবং যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়া হবে সেখানকার ঠিকানা
  5. আপনাকে সংযোগস্থলের জমির মালিকানার যাবতীয় তথ্য খতিয়ান নাম্বার এবং দাগ নাম্বার প্রদান করতে হবে।
যে ট্রান্সফরমার হতে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে চাচ্ছেন সে ট্রান্সফার মারের অধীনে আপনার পার্শ্ববর্তী গ্রাহকের হিসাব নাম্বার এবং বই নাম্বার সংগ্রহ করতে হবে।
সার্ভিস পোল থেকে আপনার সংযোগস্থলে দূরত্ব ১৩০ ফুটের কম বা বেশি কিনা তা মেপে ডাইরিতে লিখে রাখতে হবে।
এছাড়াও গ্রাউন্ড রডের ক্যাশ মেমোর ছবি কিংবা স্ক্যান করা ছবি সংরক্ষণ করতে হবে যা আপনার হাউস ওয়্যারিং নিশ্চিত করছেন এটি প্রমাণ করার জন্য দরকার হতে পারে।

এছাড়াও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃক নির্দেশিত আরো কিছু অন্যান্য কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজন হলে সেগুলো জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে।

অনলাইনে পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদনের শর্তাবলী

অনলাইনে পল্লী বিদ্যুৎ মিটারের আবেদন করার জন্য বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃক কিছু শর্ত আরোপ করা হয়। এই শর্তগুলো পরিপূর্ণভাবে পূরণ করার পরেই আপনি পড়লি বিদ্যুতের নতুন মিটারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। অনলাইন অথবা অফলাইন যেভাবেই আবেদন করেন না কেন উভয়ের ক্ষেত্রে এই শর্তাবলী প্রযোজ্য হবে। এই শর্তগুলো জানার জন্য পল্লী বিদ্যুতের নিজস্ব ওয়েবসাইটে গেলে আপনি জানতে পারবেন। এছাড়াও আপনি যদি এই পোস্টটি পড়েন তাহলেও খুব সহজে জানতে পারবেন। তাই গ্রাহকদের জানার সুবিধার্থে এই শর্তাবলী নিচে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হলোঃ

প্রথম শর্তঃ আবেদন করার সময় আবেদনকারীর ছবি, আবেদনকারী জাতীয় পরিচয় পত্র এবং আবেদনের সময় অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।

দ্বিতীয় শর্তঃ উক্ত সংযোগস্থলের মালিকানা প্রমাণ করার জন্য জমির খারিজ বা দলিলের ফটোকপি করে তা সংযুক্ত করতে হবে।

তৃতীয় শর্তঃ যে পোল থেকে সংযোগ নিবেন অর্থাৎ  সার্ভিস পোল থেকে আপনার সংযোগস্থলের দূরত্ব কত সেটা ভালোভাবে মেপে লিখে রাখুন এরপর এই দূরত্ব ১৩০ ফুট এর মধ্যে হলে ভালো হবে। দূরত্ব সম্পর্কিত ভুল তথ্য দিলে সংযোগ পেতে দেরি হতে পারে।

চতুর্থ শর্তঃ আপনাকে অবশ্যই সাতদিনের মধ্যে ঘরবাড়ি বা হাউস ওয়ারিং করাতে হবে। এছাড়াও সোলার ইউনিট প্রযোজ্য হলে স্থাপন করতে হবে। এই তথ্যগুলো অনলাইনে কর্তৃপক্ষকে প্রদান করতে হবে। তাছাড়া আবেদনটি অসম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে যাবে।

পঞ্চম শর্তঃ আপনার বিদ্যুতের লোড ৮০ কিলোওয়াট এর বেশি হলে এইচটি সংযোগের নিয়মাবলী প্রযোজ্য হয়ে যাবে।

ষষ্ট শর্তঃ আপনি যদি অনলাইনে সার্ভে করেন তাহলে সার্ভে করার পর প্রয়োজনীয় অর্থ আবেদন ফ্রি মেম্বারশিপ ফি এবং নিরাপত্তা জামানত সহ সকল নির্দেশনা আপনাকে এস এম এস এর মাধ্যমে জানানো হবে।

সপ্তম শর্তঃ আপনি যদি আবেদন ফরম এর ওপরে লাল তারকা (*) ক্ষেত্রগুলো দেখতে পান তাহলে সেগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।

অষ্টম শর্তঃ যোগাযোগের জন্য অবশ্যই আবেদনপত্র গ্রাহকের নিজস্ব এবং সক্রিয় মোবাইল নাম্বার দিতে হবে।

নবম শর্তঃ আবেদনের পর প্রাপ্ত ট্রাকিং আইডি এবং পিন নাম্বার অবশ্যই আপনাকে সংগ্রহ করতে হবে।

দশম শর্তঃ বিদ্যুৎ সংযোগ এর অর্থ আপনি চাইলে ডাচ বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং রকেট অথবা বিকাশ এর মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন।

এছাড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল উল্লেখিত শর্তগুলো বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃক প্রদত্ত সেজন্য এর শর্তগুলি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি যখন তখন পরিবর্তন অথবা পরিবর্ধন করন ক্ষমতা রাখেন। তাই যে কোন সময় এই শর্ত এগুলো পরিবর্তনও হতে পারে।

অনলাইনে পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদনের নিয়ম

অনলাইনে পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন করার নিয়ম অনুসারে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃক যে সকল শর্তগুলো উল্লেখ করা হয়েছে সে সকল শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে অনলাইনে নতুন পল্লী বিদ্যুতের মিটারের জন্য আবেদন করতে হবে। এই অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে হয়। তাই আর দেরি না করে আজকের এই পোস্টটি পড়ার মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুৎ মিটার অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে নিচে জেনে নিন।

প্রথম ধাপঃ সর্ব প্রথমে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন কারণ বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃক নতুন পল্লী বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ নেওয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.rebpbs.com প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইটে গিয়ে এই লিংকে ক্লিক করতে হবে। ক্লিক করার পরে আবেদনের অফিসিয়াল পেজটি খুব সহজে ওপেন হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় ধাপঃ আপনারা অফিসিয়াল পেজটিতে প্রবেশ করলে "আবেদন করুন" এই লেখাটি দেখতে পাবেন।আবেদন করুন লেখাটির উপর ক্লিক করলে আপনার সামনে খুব সহজে আবেদন ফ্রম চলে আসবে। এই ফর্মে লাল রঙের তারকা(*)চিহ্নিত ঘরগুলো সঠিক তথ্য দিয়ে সম্পূর্ণ করতে হবে। লিস্ট হতে প্রথমে আপনার এলাকা ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এবং জোনাল অফিস সিলেক্ট করতে হবে। এরপর একক বাড়ির জন্য সংযোগের ট্যারিফ হিসেবে এলটিএ সিলেক্ট করুন। যদি বহুতল ভবন হয় তাহলে এম টি এ সিলেক্ট করুন।(*) চিহ্নিত অংশগুলোতে অবশ্যই তথ্য প্রদান করতে হবে এবং যেখানে আপনাকে ইংরেজিতে লিখতে বলা হবে সেখানে ইংরেজিতে লিখতে হবে এসব শর্ত না মানলে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে ব্যক্তিগত তথ্য যেখানে প্রদান করবেন তার মধ্যে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর জন্ম তারিখ ইমেইল নম্বর পাসপোর্ট নম্বর ফোন নম্বর টিআইএন ইত্যাদি তথ্যগুলো প্রদান করতে হবে।

তৃতীয় ধাপঃ এই ধাপে স্থানীয় ঠিকানা এবং প্রস্তাবিত সংযোগস্থলের সঠিক বিবরণ দিতে হবে কারণ এই ধাপটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে আবেদনকারীর আইডি কার্ড অনুযায়ী স্থায়ী ঠিকানাটি পূরণ করতে হবে। অবশ্যই আইডি কার্ড অনুযায়ী দিতে হবে যেখানে সংযোগস্থল নিতে চান সে তথ্যের বিবরণ প্রস্তাবিত সংযোগস্থলের বিবরণ এর জায়গায় বসাতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি যে জায়গা অনুযায়ী নাম জারি কিংবা দলিলের কপি সংযুক্ত করবেন সংযোগস্থলে ঠিকানাও সে অনুযায়ী হতে হবে।

চতুর্থ ধাপঃ চতুর্থ ধাপে জিওগ্রাফিক, কানেকশন, লোড এবং চাহিদাকৃত লোডের সঠিক তথ্য পূরণ করতে হবে। কারণ আপনার নিকটবর্তী সার্ভিসপোল হতে সংযোগস্থলে দূরত্ব সঠিক ভাবে মেপে নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী জিওগ্রাফিক তথ্য প্রদান করতে হবে। যদি মাফ ভুল হয় তাহলে কেবল কিংবা তারের সংযোগ পেতে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। এছাড়াও একই পিলারের আওতায় পার্শ্ববর্তী গ্রাহকের বই নং, হিসাব নং, মিটার নাম্বার এবং পোল নাম্বার পূরণ করতে হবে তবে সেটা অবশ্যই ইংরেজিতে পূরণ করবেন। এরপর স্থায়ী নাকি অস্থায়ী তা নির্ধারণ করতে হবে। এই অংশে আপনার বাসায় কোন কোন ইলেকট্রনিক যন্ত্র গুলো ব্যবহার করা হবে তার একটি তালিকা দিতে হবে।

পঞ্চম ধাপঃ এভাবে ডকুমেন্টস আপলোড এবং সম্মতি প্রদান করতে হবে। এখানে আপনার যে তথ্যগুলো দিতে হবে তা নিচে আলোচনা করলাম।

  1. আপনার ছবি
  2.  আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র এবং
  3.  আপনার খারিজ

এই তথ্যগুলো সাবমিট করার আগে অবশ্যই সঠিক সাইজ করে নিতে হবে। এটা খুবই সহজ এখানে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কিছু শর্ত দিবে আপনি ওই শর্তগুলোর সাথে একমত কিনা তাতে টিক মার্ক দিতে হবে। সবশেষে একটি ক্যাপচা কোড পূরণ করতে বলা হবে সেটি পূরণ করে "সংরক্ষণ করুন" বাটনে ক্লিক করতে হবে। তাহলে আপনার আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়ে যাবে।

পল্লী বিদ্যুৎ আবেদন পত্র ডাউনলোড করার নিয়ম

অনেকে আছে যারা পল্লী বিদ্যুৎ আবেদন পত্র ডাউনলোড করার নিয়ম জানার জন্য গুগলে অনুসন্ধান করে থাকেন। তাই আমি আজকের এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনাদেরকে খুব সহজে জানাবো পল্লী বিদ্যুৎ আবেদন পত্র ডাউনলোড করার নিয়ম সম্পর্কে। তাহলে চলুন আর দেরি না করে নিচে দেখে নেওয়া যাক।

সর্বপ্রথম আপনার এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এর ওয়েবসাইট ভিজিট করতে হবে।

এরপরে ওয়েব সাইটে আবেদন ফরম ডাউনলোড বা ফরম বিভাগ খুঁজতে হবে এখানে নতুন সংযোগের জন্য আবেদন পত্র পাওয়া যাবে।

আবেদন পত্রটির ডাউনলোড লিংকে ক্লিক করতে হবে এবং আপনার কম্পিউটারে এটি সেভ করতে হবে।

আবেদনটি ডাউনলোড করা সম্পূর্ণ হলে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।

আবেদন পত্র প্রিন্ট করার নিয়ম

আবেদনপত্র প্রিন্ট করার জন্য প্রথমে সংরক্ষণ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর একটি ট্রাকিং নাম্বার পাবেন এবং একটি পিন নাম্বার পাবেন উক্ত তথ্যগুলো সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। সংরক্ষণ করার কারণ হলো পরবর্তীতে আবেদন সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানার জন্য আপনাকে এই ট্র্যাকিং নাম্বার এবং পিন নাম্বার ব্যবহার করতে হতে পারে। এরপর আবেদন ফরমটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে হবে।

হাউস ওয়্যারিং নিশ্চিত করতে হবে

এ পর্যায়ে আপনাকে আপনার বাসার হাউজ ওয়ারিং সম্পন্ন হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য আপনার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট হলো
  1. গ্রাউন্ড রড ক্রয়ের মেমো অথবা রশিদ
  2. ট্র্যাকিং নাম্বার
  3.  পিন নাম্বার

এরপরে ওয়েবসাইটের হোম পেজে গিয়ে মেনুবার থেকে হাউজ ওয়ারিং নিশ্চিত করতে হবে।  এই লিংকে ক্লিক করতে হবে লিংকে প্রবেশের পর ট্রাকিং নাম্বার এবং পিন নাম্বার দিতে বলবে সঠিকভাবে পূরণ করে সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। সাবমিট অপশনে ক্লিক করার পর হাউস ওয়্যারিং নিশ্চিতের তথ্য চাইবে হাউস ওয়ারিং নিশ্চিত হয়েছে।

 এখানে সিলেক্ট করতে হবে এবং গ্রাউন্ড রড কেনার মেমো অথবা রশিদের নাম্বারটি ইংরেজিতে লিখতে হবে। সর্বশেষে রশিদ বা মেমোটি আপলোড করতে হবে এবং বাড়ির ঠিকানা লিখতে হবে এ পর্যায়ে একটি ক্যাপচা কোড পূরণ করতে বলবে। কোটি পূরণ করে সম্পূর্ণ বাটনে ক্লিক করতে হবে। সঠিকভাবে পূরণ করলে হাউস ওয়্যারিং নিশ্চিত এমন একটি মেসেজ দেখাবে আপনার ফোনে। তাহলেই বুঝবেন হাউজ ওয়ারিং নিশ্চিত হয়েছে।

আবেদনের সংযোগ ফি পরিশোধ করতে হবে

হাউস ওয়্যারিং নিশ্চিত হয়ে গেলে পল্লী বিদ্যুৎ মিটারের আবেদন ফ্রি পরিশোধ করতে হবে। পল্লী বিদ্যুৎ মিটারের আবেদন ফি সর্বোচ্চ দুইবার পরিশোধ করতে পারবেন। আপনি চাইলে আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী আবেদন ফি ব্যাংকের মাধ্যমে কিংবা বিকাশ অথবা রকেটের মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি চাইলে সরাসরি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়েও ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন করতে কত টাকা লাগে



পল্লী বিদ্যুৎ আবেদন করতে কত টাকা লাগে এ বিষয়ে জানার জন্য অনেক মানুষের গুগলে অনুসন্ধান করে থাকেন। তাই চলুন আর দেরি না করে আজকের এই আর্টিকেল এর মধ্যে খুব সহজে জেনে নেওয়া যাক পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন করতে কত টাকা খরচ লাগে।

পল্লী বিদ্যুতের নতুন আবাসিক মিটার সংযোগের জন্য আনুমানিক মোট খরচ হবে প্রায় ১৪৩৪ টাকা এর মধ্যে আরো বিভিন্ন ধরনের খরচ রয়েছে এগুলো নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

অনলাইন আবেদন ফ্রি - ১৩৮ টাকা
সদস্য ফ্রি - ৫০ টাকা
নিরাপত্তা জামানত - ১১৪৬ টাকা
মোট আবেদন ফি, সদস্য ফ্রি, জামানত - ১৩৩৪ টাকা
আনুমানিক ওয়ারিং খরচ  ১২০০-১৫০০ টাকা
মোট খরচ  ১৩৩৪-২৮৩৪ টাকা

তবে ওয়ারিং মালামালের খরচ এবং আরও অন্যান্য খরচ স্থান এবং বাজারের ওপর নির্ভর করে আরো কম এবং বেশিও হতে পারে।

আবেদনের বর্তমান অবস্থা অনুসন্ধান

আপনি যদি পল্লী বিদ্যুতের মিটারের জন্য অনলাইনে আবেদন করার পরে তাতে কোন ধরনের সমস্যা আছে কিনা সে বিষয়টি জানতে চান। তাহলে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিজস্ব ওয়েবসাইট www মেনু বারে "আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানুন" এ অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে। ক্লিক করার পর আপনার কাছে সংরক্ষিত ট্রাকিং নাম্বার এবং পিন নাম্বারটি ইনপুট করে "সাবমিট করুন" অপশনে ক্লিক করতে হবে। তাহলে এখানে আপনি আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন।

পল্লী বিদ্যুৎ মিটার সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর

পল্লী বিদ্যুৎ মিটার এবং সংযোগ সম্পর্কে কিছু সাধারণ প্রশ্ন আপনারা google এ অনুসন্ধান করে থাকেন। যে প্রশ্নগুলো অনেক সাধারণ কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ এ ধরনের কিছু সাধারণ প্রশ্ন এবং উত্তর নিয়ে এ পর্বটি লেখা হলো। নিচের দিকে পড়ে এ প্রশ্ন উত্তর গুলো খুব সহজে জেনে নিন।

পল্লী বিদ্যুতের সার্ভিস পোল থেকে কত ফিট দূরত্বের মধ্যে নতুন সংযোগ পাওয়া যায়

পল্লী বিদ্যুতের সার্ভিস পোল্ট থেকে সাধারণত 130 ফিট দূরত্বের মধ্যে নতুন সংযোগ পাওয়া যায়

BREB কি সরকারি সংস্থা

BREB (Bangladesh Rural Electrification BOARD). বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড একটি সরকারি সংস্থান যা বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২০২৫ সালে পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন ফি কত

২০২৫ সালে পল্লী বিদ্যুৎ মিটারের আবেদন ফ্রি ১১৫ টাকা।

পল্লী বিদ্যুৎ আবেদন করতে কি কি কাগজ লাগে

জমির মালিকানা তথ্য, খতিয়ান নাম্বার, দাগ নাম্বার এবং মোবাইল নাম্বার।

পল্লী বিদ্যুৎ খুঁটির দাম কত টাকা

পল্লী বিদ্যুৎ খুঁটির দাম প্রায় ২৯ হাজার টাকা

পল্লী বিদ্যুৎ কত টাকা ইউনিট

৩.৭৫ থেকে ১১.৪৬ টাকা পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুৎ মিটারের ইউনিট হয়ে থাকে।

শেষ মন্তব্য

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে অনলাইনে পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন করার নিয়ম যেমন, পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন করতে কি কি ডকুমেন্ট লাগে, অনলাইনে পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন পত্র ডাউনলোড করার নিয়ম, আবেদন পত্র প্রিন্ট করার নিয়ম,  আবেদনের বর্তমান অবস্থা অনুসন্ধান, পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন করতে কত টাকা লাগে এবং আবেদনের সংযোগ কি পরিষদ ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারবেন।

অনলাইনে পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কিত আজকের পোস্টটি ওরে পড়ে আপনারা তথ্যগুলো বিস্তারিতভাবে জানতে পেরেছেন এবং অনেক উপকৃত হয়েছেন। আমি আশা করি। তথ্যগুলো আপনাদের অনেক কাজে লাগবে। এরকম আরো আপডেট তথ্য পাওয়ার জন্য আমার ওয়েবসাইটের সাথে থাকুন এবং শেয়ার করে দিন যেন অন্যরা তথ্যগুলো ভালোভাবে জানতে পারে। বিদ্যুতের অপচয় রোধ করুন এবং স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করুন। ধন্যবাদ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url